পশ্চিম মেদিনীপুর। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় নিখোঁজ হওয়া এক নাবালিকা কিশোরীর ঘটনা ক্রমশ আরও গুরুতর ও বিতর্কিত হয়ে উঠছে। নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা শংকর জানা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ১৭ বছরের মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ পুলিশ এখনও পর্যন্ত তাঁর মেয়ের কোনও খোঁজ বের করতে পারেনি। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা নাকি প্রায় এক লক্ষ টাকা পুলিশকে দিয়ে পুরো ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়ে চলেছে।
ঘटनাটি বেলদা থানার বিমলটিটিয়া গ্রামের। সেখানে বসবাসকারী শংকর জানার নাবালিকা মেয়ে গত ১ এপ্রিল ২০২৬ রাতে রহস্যজনকভাবে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন রাতে খাবার খেয়ে মেয়েটি নিজের ঘরে ঘুমোতে গিয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাকতে গেলে ঘরে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর গোটা গ্রাম ও আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও কোথাও কোনও সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী ২২ বছরের হালিম শাহ তাদের মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, হালিম শাহের পরিবারের সদস্য ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মেয়েটিকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় বেলদা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এবার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। শংকর জানার অভিযোগ, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেও পুলিশের পদক্ষেপ অত্যন্ত ধীরগতির ছিল। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত যুবক এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নির্যাতিতার বাবার আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা নাকি প্রায় এক লক্ষ টাকা পুলিশকে দিয়ে মামলাটি চাপা দিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি, তবুও পরিবার বারবার প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলছে।
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে শংকর জানা ও তাঁর পরিবার গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের বক্তব্য, তারা নিয়মিত থানায়, প্রশাসনিক দফতরে এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কোথাও কোনও সঠিক সাড়া মিলছে না। মেয়ের চিন্তায় পরিবারের খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নির্যাতিতার বাবা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন দ্রুত তাঁর মেয়েকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিবারটি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ নাবালিকার কোনও সন্ধান না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
#WestBengalNews
#MissingGirl
#BeldaCase
#PaschimMedinipur
#MinorGirlMissing
#CrimeNews
#BreakingNews
#LoveTrap
#KidnappingCase
#PoliceInvestigation
#BengalCrime
#BanglaNews
#BeldaPolice
#GirlMissingCase
#MysteryNews
#WestMedinipur
#MinorKidnapCase
#JusticeForShankarJana
#ViralNews
#BringHerBack

